
গ্রহগুলো গঠিত হয় তরুণ নক্ষত্রের চারপাশের ধুলিকণা ও গ্যাস হতে। কিন্তু এর ডিটেইলস প্রসেসটা ধোয়াশা ছিল। ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করাও বেশ চ্যালেঞ্জিং, তবে এখন চিলির আটাকামা লার্জ মিলিমিটার/সাবমিলিমিতের এরেই (ALMA) ধুলিকণার দানার আকার পরিমাপ করেছে অবিশ্বাস্য নিখুঁতভাবে।
একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল এএলএমএ ব্যবহার করে HD 142527 কে নিয়ে গবেষণা করে, এটি ৫ মিলিয়ন বছরের পুরানো নক্ষত্র, এর ভর আমাদের নক্ষত্রের দুই গুণ। এর অবস্থান ৫০০ আলোক বর্ষ দূরে। এটি নিকটে আসায় কোন গ্রহ গঠনের পূর্বে অবস্থান গবেষণার জন্য এটি পার্ফেক্ট টার্গেট।
গবেষণাটি এস্ট্রোফিজিক্স জার্নাল লেটারস-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় দলটি দেখেছিল কিভাবে ধুলো দানার দ্বারা আলো বিভিন্ন দিকে বিচ্ছুরিত হয়, এর প্রভাবণকে বলা হয় পোলারাইজেশন। গবেষকগণ অনুমান করতে সক্ষম হন ধুলোর দানা গুলোর আকার পরিমাপ করতে। এই দানা গুলো বেশীরভাগই ১৫০ মাইক্রোমিটার যা প্রায় ১০ গুণ ছোট আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে।

“পূর্বের গবেষণায়, জ্যোর্তিবিজ্ঞানীগণ অনুমান করেছিল রেডিও ইমিশনস এসুইমিং হাইপোথেটিকল স্ফেরিকল ডাস্ট পার্টিকল-এর উপর নির্ভর করে” বলেন জাপানের ন্যাশনাল এস্ট্রোনোমিক্যাল অভজার্ভেটরি এবং হেইডেলবার্গ ইউনিভার্সিটির আকিমাসা কাটাওকা তার একটা বক্তব্যে। “আমাদের গবেষণা, আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি পোলারাইজেশনের মাধ্যমে বিচ্ছুরিত রেডিও তরঙ্গের, যেগুলো উঞ্চ ধুলো নির্মগণ হতে স্বাধীনভাবে তথ্য বহন করে”। এধরণের বড় পার্থক্য ধুলিকণা গুলোর আকার বুঝাচ্ছে যে পূর্বের অনুমানে ভুল থাকতে পারে।
আগেকার মডেল গুলো এবং বর্তমান পরিমাণগুলো অনুমানের উপর নির্ভর করে বলা যায় যে ধুলোর দানা গুলো গোলাকার। পর্যবেক্ষণ এবং থিউরির মধ্যে সমস্যা সমাধানে গবেষকরা প্রস্তাব করেন ধুলো দানা গুলোর গঠন জটিল, বরং এগুলো ছোট ছোট বলের আকার না বলে। জটিল বৈশিষ্ট্য টি ব্যাখ্যা করে কিভাবে প্রোটোপ্লানেটরি ডিস্ক দিয়ে আলো বিচ্ছুরিত হয়।
HD 142527 এর চারপাশের ধুলোর চাকতি হতে রেডিও তরঙ্গের পোলারাইজেশন ফ্রাকশন খুবই কম। “এএলএমএ এর উচ্চ সংবেশনশীলতাকে ধন্যবাদ যে আমরা ধুলিকণার আকার ও আকৃতি সম্পর্কে ক্ষুদ্র সংকেতের তথ্য আরোহণ চিহ্নিত করতে পেরেছি” বলেন কাটাওকা। “ধুলোর বিবর্তন এর সাথে পোলিরিমেট্রি গবেষণা একদম প্রথম পর্যায়ে আছে এবং আমি বিশ্বাস করি এর ভবিষৎ উন্নতি খুবই উত্তেজক হবে”।
যদি ধুলোর দানা গুলো গোল না হয়, জ্যোর্তিবিজ্ঞানীগণ আগের পর্যবেক্ষণ থেকে নেওয়া সময়য় দেখতো এবং পূনরায় ব্যাখ্যা করতো গবেষণার আলোকে। কে জানে, এসব নতুন আবিষ্কারের মধ্যে কিছু মজার কোন লুকানো তথ্য হয়তো থাকতেও পারে।
তথ্যসূত্রঃ
Leave a Reply