
এ মাস থেকেই ফ্রান্সের শিশুরা নতুন উপকরণের সাহায্যে হাতে-কলমে যৌন-শিক্ষা অর্জন করবে। প্রাইমারি হতে সেকেন্ডারী স্কুল শিক্ষা পর্যন্ত। প্রথম ওপেন-সোর্স, শারীরিকভাবে সঠিক, থ্রি-ডি প্রিন্টযোগ্য ক্লিটরিস উপকরণ যৌনশিক্ষার জন্য যথোপযুক্ত । একজন সামাজিক-চিকিৎসা গবেষক, Odile Fillod এই নতুন যন্ত্রটিকে উন্নত করে। তিনি আশা করেন এগুলো ছেলে-মেয়েদের অঙ্গ গুলোকে ভালভাবে পরিচিতি করবে। অনেকে যতটুকু মনে করতেছেন এগুলো তার চেয়েও বড়।
Fillod এর ভাস্কর্য দিয়ে স্টুডেন্টরা শিখবে যে ক্লিটোরিস তৈরি হয় পেনিস যে টিস্যু দিয়ে তৈরি হয় সেই একই টিস্যু দিয়ে। ক্লিটোরিস এবং পেনিসের মধ্যে পার্থক্য একটাই যেটা মহিলাদের ইরেক্টাইল টিস্যু শরীরে ভিতরে থাকে এবং এটা কখনো কখনো বেশ লম্বা, প্রায় ৮ ইঞ্চি।
কিছু মানুষ এসব বিষয়ে সচেতন, কিন্তু পেনিস এবং ক্লিটরিস আসলে প্রায় অবিশ্বাস্যভাবে একই। বস্তুত গর্ভাবস্থায় ১২ সপ্তাহ না হওয়া পর্যন্ত ফিটাস বা ভ্রূণদের একই জননেন্দ্রিয় থাকে। পরবর্তীতে এই স্ট্রাকচারটির বিকাশের ফলে এটি একটি ক্লিটোরিস(ভগাঙ্কুর) অথবা পেনিস (শিশ্ন) এর আকার ধারণ করে। ক্লিটোরিস উত্তেজিত হলে আয়তনে বেড়ে যায়, অনেকটা পেনিসের মতোই, এবং এমনকি ইরেকশনের ধরণটা অনুভব করার মতো।
ফিলোড বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, যখন নারীরা স্টিমুলেটেড বা উদ্দীপিত হয় তখন তাদের শরীরে কি ঘটতে থাকে এব্যাপারে তাদের মধ্যে একটি মেন্টাল ইমেজ তৈরি হয়। ক্লিটোরিসের মূল ভূমিকাটি বুঝতে পারলে, একজন নারী পিনাইল ভাজাইনাল ইন্টারকোর্সে বা যৌনমিলনে আনন্দ না পেলে তাতে তাকে আর লজ্জা পেতে হবে না বা এতে কোন অস্বাভাবিকতা আছে বলে মনে করতে হবে না, যা অনেক নারীই করে থাকেন”।
Fillod এর মতে, ক্লিটোরিসের সাথে মহিলাদের পরিচিত করানো গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই অঙ্গটির কাজটিই হল ইন্টারকোর্স বা যৌনমিলনের সময় নারীদের সুখানুভূতি প্রদান করা। আর যেহেতু ক্লিটোরিসে ৮০০০ টি সংবেদনশীল নার্ভ এন্ডিং বা স্নায়ুর প্রান্ত থাকে (যা পেনিসের গ্লান্স বা লিঙ্গমুণ্ডের দ্বিগুণ) তাতে আর আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে বেশিরভাগ মহিলাদেরই কামোত্তেজনায় পৌছুতে ক্লিটোরিসের উদ্দীপনা বা ক্লিটোরাল স্টিমুলেশনের প্রয়োজন হয়।
এই এক্সট্রা সেন্সিটিভিটি বা অতিসংবেদনশীলতা ছাড়াও ক্লিটোরিসের আরেকটি বৈশিষ্ট্য আছে যা পুরুষকে ঈর্ষান্বিত করতে পারে। ক্লিটোরিস নারীর সারা জীবন জুড়েই বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, এবং যদিও এর একটি ক্ষুদ্র অংশকেই দেখা যায়, নারীর ফার্টাইল পিরিয়ড বা উর্বর সময় কালে এটি ২.৫ গুণ বেশি বড় হতে পারে।
Fillod আশা করেন ডাক্তারেরা এবং স্কুল শিক্ষকেরা তার তৈরি এই ক্লিটোরিসটিকে নারীর শরীর সম্পর্কে শিক্ষা দিতে এবং শিক্ষা নিতে ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, “বাস্তবভিত্তিক যৌনতার বিষয়ের জন্য ফ্রান্সের একটা সুনাম আছে , কিন্তু প্রায়ই এটা পুরুষের যৌনতার ক্ষেত্রে”। যাইহোক, সে আশাবাদি ভবিষতে নারীরা বুঝবে তাদেরও পুরুষদের মতো ইরেক্টাইল পদ্ধতি আছে, এবং তিনি আরো বলেন, “আমি মনে করি নারীরা আরো বেশী গবেষণা শুরু করবে। তারা বুঝবে যে আনন্দদায়ক বিষয়টা কোন যাদু নয় যে তার সঙ্গীই শুধু জানবে কিভাবে দেওয়া যায়”।
তথ্যসূত্র:
Leave a Reply