
মানসিক সমস্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত অনেকগুলো জটিলতার মধ্যে একটা একটি হল এরকম সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিগণ প্রায়ই কখন এই সমস্যাগুলোর সিম্পটমগুলো দেখা দেবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হন না। আর তাই এই জটিলতা এড়াবার জন্য আগে থেকেই চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। খুশির খবর এই যে, এখন এর একটি সায়েন্স ফিকশন ভিত্তিক সমাধান বাস্তবে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর এটা সম্ভব হয়েহে গবেষকগণের মাইন্ড কন্ট্রোল ন্যানোরোবট বা মন নিয়ন্ত্রক ন্যানোরোবটের আবিষ্কারের দ্বারা। এই ন্যানোরোবটগুলোকে মস্তিষ্কে ইনজেক্ট করে দেয়া হয় এবং যখনই এরা নিউরাল এক্টিভিটিতে কোন সমস্যা খুঁজে পায় তখনই এরা মেডিকেশন বা প্রয়োজনীয় ঔষধ রিলিজ করে।
প্লস ওয়ান জার্নালে তাদের কাজগুলোর বিবরণ দেয়া হয়। গবেষণাটির লেখকগণ সেখানে ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে তারা ডিএনএ অরিগামি প্রক্রিয়ায় ডিএনএ স্ট্র্যান্ড ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শেল তৈরি করেছেন। এই ক্ষুদ্র শেলগুলোকে আবার আয়রন অক্সাইডের ন্যানোপার্টিকেল এর ক্ষুদ্র গেট বা দরজার সাহায্যে বন্ধ ও খোলাও যাবে। এই শেলগুলোর মধ্যে তারা ফ্লুরোসেন্ট এন্টিবডির অংশ প্রবেশ করিয়েছেন। আর এরপর তারা একটি আরশোলার মস্তিষ্কে এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন মাইক্রোস্কোপিক স্ট্রাকচার প্রবেশ করানো হয়।

এই আয়রন অক্সাইড দরজাগুলোকে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এনার্জি ব্যবহার করে তাদের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে তাদেরকে বন্ধ করা ও খোলা যায়। আর দরজার এই খোলা বন্ধ হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষুদ্র শেলের ভেতরে থাকা বস্তুগুলোর রিলিজ বা নিঃসরণকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক এনার্জি ব্যবহার করে সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আরশোলা বা তেলাপোকাটিকে একটি ইনডাকশন কয়েলের অভ্যন্তরে রাখা হয়। এই ইনডাকশন কয়েকটি অনেকগুলো ইলেক্ট্রোডের সাথে যুক্ত ছিল যেই ইলেক্ট্রোডগুলো মানুষের মাথায় প্রবেশ করানো হয়েছিল যাতে সেই ব্যক্তির ব্রেইন এক্টিভিটি বা মস্তিষ্কের কার্যক্রমকে রেকর্ড করা যায়।
একটি এলগরিদম তৈরি করা হয়েছে যাতে ব্রেইন এক্টিভিটির কোন নির্দিষ্ট প্যাটার্নকে সনাক্ত করা গেলেই ইন্ডাকশন কয়েলটি চালু হয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে গবেষকগণ ব্যক্তিকে একটি মেন্টাল এরিথমেটিক পাজলের সমস্যার সমাধান করতে বলেন। আর কয়েলটিকেও এমনভাবে প্রোগ্রাম করা হয় যাতে এটা তখনই একটিভেটেড বা সক্রিয় হয় যখন এই এরিথমেটিক প্রবলেম সম্পর্কিত নিউরাল প্যাটার্ন সনাক্ত করা হবে।
এরপর এর ফলে আয়রন অক্সাইড গেটটি খুলে যায়, এরফলে ককরোচ বা আরশোলার মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা ফ্লুরোসেন্ট পার্টিকেলগুলো নিঃসৃত হয়। গবেষকগণ এই ফ্লুরোসেন্ট এর আভার ছড়িয়ে পড়া পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন, যার অর্থ হল এই পদ্ধতিটি সফল হয়েছে।
গবেষণাটির কো-অথর সাচার আরনন বলেন, এই পদ্ধতিটির সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেন্টাল ডিজর্ডারের রোগীদের মস্তিষ্কে ড্রাগ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। যেমন, সিজোফ্রেনিয়ার ক্ষেত্রে ন্যানোরোবটরা প্রথম দশার সিজোফ্রেনিক অবস্থার ব্রেইন এক্টিভিটি সনাক্ত করে তার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করে ব্যক্তির ভবিষ্যতে সিজোফ্রেনিয়া হবার সম্ভাবনাকে অংকুরেই বিনষ্ট করতে পারে।
যাই হোক, মানুষ যেহেতু ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক কয়েলের ভেতরে তাদের জীবন অতিবাহিত করতে পারে না, তাই মানুষের উপর এই টেকনোলজিটিকে প্রয়োগ করতে হলে আগে এটাকে রিফাইন করতে হবে। আরনন বলেন, তার দল এই কয়েলের বিকল্প হিসেবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরির জন্য একটি স্মার্ট ওয়াচ তৈরি করার পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও বলেন, এই টেকনিকটি মেডিকেশন বা চিকিৎসা ছাড়াও আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন একটি মজার এপলিকেশন হতে পারে, এর সাহায্যে আপনি যাতে নিজেকে খুশি রাখার জন্য প্রয়োজনীয় এলকোহলই গ্রহণ করতে পারেন কিন্তু মাতাল না হোন এটাও নিশ্চিন্ত করা যেতে পারে।
তথ্যসূত্র:
Leave a Reply