Table of Contents
ভূমিকা
২০২৫ সালের বুধবার বিকেলে, “স্বাধীনতা দিবস” নামক নিজের ঘোষিত একটি অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের (US) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আমদানি পণ্যের ওপর বিস্তৃতহারে শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সব ধরনের আমদানি পণ্যের ওপর ১০% সার্বজনীন শুল্ক, যা ট্রাম্পের ভাষায় “প্রায় সবকিছুর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে”। এ ছাড়া চীনা পণ্যের ওপর আগে থেকেই আরোপিত ২০% শুল্ক আরও বাড়িয়ে মোট ৩৪% করার কথা বলা হয়েছে, যা আগের শুল্ক যুক্ত করে কার্যত ৫৪% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
বিনিয়োগকারী মহল ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘোষণাকে “অবাস্তব” এবং “উন্মাদনাপূর্ণ” হিসেবে বর্ণনা করছেন, বিশেষত যদি ট্রাম্পের সরকার সত্যি সত্যি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। সিএনবিসি (CNBC) এই সিদ্ধান্তকে শেয়ারবাজারের জন্য “সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির চেয়েও খারাপ” বলে অভিহিত করেছে। এই নিবন্ধে আমরা পর্যালোচনা করব, ঠিক কী ঘটেছে ট্রাম্পের তথাকথিত “স্বাধীনতা দিবসে”, শুল্কনীতি ঠিক কেমন হবে, আর ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে।
“স্বাধীনতা দিবস (Liberation Day)” ঘোষণার পটভূমি
ট্রাম্পের ঘোষণার আগের পরিস্থিতিতে বেশ কিছু জটিলতা ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউস (White House) থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি “পারস্পরিক শুল্ক (reciprocal tariffs)” আরোপের পরিকল্পনা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে তিনি বারবার বলেছিলেন, “চোখের বদলে চোখ, শুল্কের বদলে শুল্ক—ঠিক একই হারে”—এর মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করবেন।
শুনতে এ পরিকল্পনাটি হয়তো কিছুটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার (tariff rates) অনেক দেশের তুলনায় কম, যা অন্য দেশগুলোর পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিকে সহজ করে তোলে, কিন্তু মার্কিন পণ্য রপ্তানিতে বিভিন্ন বাধা থেকেই যায়। ট্রাম্পের মার্কান্টাইলিস্ট (mercantilist) অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অন্যায্য। আবার আরেকভাবে ভাবলে, যদি অন্য দেশগুলো তাদের আমদানিতে শুল্ক কমায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রও কমাবে—এই যুক্তি শুনতে “মুক্তবাণিজ্য (free trade)”-কে উৎসাহিত করার মতো শোনায়।
কিন্তু গভীরে ভাবলে দেখা যায়, “পারস্পরিক শুল্ক” নীতি সহজে বাস্তবায়ন করা খুব জটিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কতালিকায় বর্তমানে প্রায় ১৩,০০০ পণ্য-লাইন (line items) রয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২০০ দেশের সাথে বাণিজ্য করে। যার মানে ওয়াশিংটনকে হাজার হাজার সূক্ষ্ম স্তরের মিল-মাপ বজায় রাখতে হবে, প্রতিটি পণ্য ও প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে। এমনকি এমন নীতি শুল্কহারে অদ্ভুত বৈষম্যও তৈরি করতে পারে—যেমন: কোনো কারণে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি (Chinese EV imports)-এর ওপর ১০০% শুল্ক রাখা, যা নিয়ে ট্রাম্প আগে জোর দিয়েছিলেন, সেটিও একধরনের “পারস্পরিকতা” হিসাবে দাবি করা মুশকিল।
এরপরও ব্যাপারটা আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন ট্রাম্প মার্চ মাসে স্পষ্ট করে জানান যে তার “পারস্পরিক শুল্ক” কেবলমাত্র শুল্কের মাত্রার (tariff rates) ওপর নয়, অনান্য শুল্ক-বহির্ভূত (non tariff barriers) বিষয়ের ওপরও প্রযোজ্য হবে। যেমন—মুদ্রার অবমূল্যায়ন (currency devaluation), যা আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন পণ্যের চাহিদাকে কমিয়ে দিতে পারে, কিংবা ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর (value added tax), যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ব্যবহার করে। অথচ ভ্যাট সাধারণত স্থানীয় ও বৈদেশিক পণ্যের ওপর সমানভাবে আরোপিত হয়, সুতরাং এটাকে অন্যায় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা হিসেবে ধরা অদ্ভুত।
সরাসরি বললে, এসব জটিল উপাদানকে কোন পদ্ধতিতে গুনে “প্রতিশোধমূলক শুল্ক (reciprocity)” নির্ধারণ করা হবে, তা কারও কাছেই স্পষ্ট ছিল না। বরং কেউ কেউ ভেবেছিলেন, ট্রাম্প এই “পারস্পরিক শুল্ক” শব্দগুচ্ছটি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন, যেন তারা ছোটখাটো ছাড় (concessions) দেয়। এমনকি শেয়ারবাজারে (stock market) কিছুটা আশাবাদও দেখা গিয়েছিল—এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক তিন দিনব্যাপী বাড়তে থাকে, আগের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেয়। ডলারের (USD) দরও স্থিতিশীল থাকে। বাজারের অনেকে আশা করছিলেন, “স্বাধীনতা দিবস” ঘোষণায় ট্রাম্প হয়তো আসলে খুব বড় কোনো শুল্ক আরোপ না করে মধ্যমপন্থী কিছু ব্যবস্থা নেবেন।
কিন্তু বাস্তবে হল ঠিক উল্টো।
ট্রাম্পের ঘোষণা: শুল্কবৃদ্ধির বিশাল ঢেউ
দুঃখজনকভাবে, মার্কিন শেয়ারবাজার বা যে কেউ যাদের পকেটে কিছুটা অর্থ বিনিয়োগ আছে, তাদের জন্য এই ঘোষণা ছিল ভীতিকর। বুধবারের “স্বাধীনতা দিবস” উদযাপন উপলক্ষে ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেন, তা এক কথায় মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম একদিনের শুল্ক বৃদ্ধির উদাহরণ।
প্রথমত, ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে সর্বজনীন ১০% শুল্ক (a flat 10% tariff) সব আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে। এর মানে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সব পণ্যের দামের ওপর ১০% অতিরিক্ত শুল্ক বসবে।
দ্বিতীয়ত, চীনা (China) পণ্যের ক্ষেত্রে সেই হার আরও বেশি—৩৪% নতুন শুল্ক, যা আগের ২০% শুল্কের ওপরে আরোপিত হবে। সুতরাং কার্যত চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫৪%।
তৃতীয়ত, তাইওয়ানের (Taiwan) ওপর ৩২%, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) ওপর ২০% এবং যুক্তরাজ্যের (UK) ওপর ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—এগুলোর কোনোটিকে কীভাবে “পারস্পরিক (reciprocal)” বলে দাবি করা যায়, তা স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প অনুষ্ঠানে একটি চার্ট দেখান, যেখানে দেখা যায়, এসব দেশে যে-পরিমাণ “কার্যকর শুল্কহার (effective tariff rate)” প্রযোজ্য, তার সাথে মিল রেখে বা তার অর্ধেকের কাছাকাছি হারে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক বসাচ্ছে। কিন্তু আসলে কীভাবে এই কার্যকর শুল্কহার গণনা করা হয়েছে—তার কোনও স্পষ্ট তথ্য নেই।
উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প দাবি করেন যে ইইউ (EU) আমেরিকান পণ্যের ওপর গড়ে ৩৯% শুল্ক আরোপ করে। কিন্তু বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী ইইউ-তে মার্কিন পণ্যের ওপর বাণিজ্য-ওজনকৃত (trade weighted) গড় শুল্ক ২%-এরও কম। সুতরাং ৩৯%-এর দাবির কোনও বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না।
অন্যদিকে ব্রাজিলকে (Brazil) তিনি মাত্র ১০% শুল্কের তালিকায় রেখেছেন, অথচ ব্রাজিল ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ শুল্কহার ও কঠোর বাণিজ্য বাধার জন্য পরিচিত। আবার সিঙ্গাপুরের (Singapore) ক্ষেত্রেও একই ১০%—যেখানে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম মুক্তবাণিজ্যপন্থী (liberal attitude to free trade) দেশ হিসেবে পরিচিত। রাশিয়াও (Russia) কোনোভাবে সম্ভবত শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কের সুবিধা পেয়ে গেছে। এমনকি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সব ধরনের শুল্ক একরকম তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েও ইসরায়েল (Israel) ১৭% শুল্কের মুখে পড়েছে, যার কোনো সুস্পষ্ট কারণ দেখানো হয়নি।
স্বল্পমেয়াদি প্রভাব: মার্কিন অর্থনীতি
এত বড় আকারের শুল্ক আরোপের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন শেয়ারবাজারে তোলপাড় শুরু হয়। নিবন্ধটি লেখা পর্যন্ত, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ (S&P 500) সূচক প্রায় ৩% পড়ে যায়, এবং এটি আউট অব আওয়ারস (out of hours) সময়ের জন্য বিশাল ধস বলে ধরা হয়।
কেবলমাত্র শেয়ারবাজারই নয়, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগব্যয় (consumption) প্রবণতাও এই ধাক্কা খেতে পারে। কেননা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে শীর্ষ ১০% আয়ের ব্যক্তিরা সামগ্রিক ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি পরিচালনা করেন। এই উচ্চ আয়ের শ্রেণি অনেকাংশেই শেয়ারবাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেয়ারের দাম পড়লে তারা ব্যয় কমাতে পারেন, যার পরিণতি সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দ্বিতীয়ত, শুল্ক বৃদ্ধির কারণে বিদেশি পণ্যের দাম যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে যাবে, যা মূল্যস্ফীতি (inflation) চাপ বাড়াতে পারে। সাধারণ ভোক্তারা আমদানি করা পণ্য কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত মূল্য গুনবেন। ফেডারেল রিজার্ভ (Federal Reserve)-কে (মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক) তখন এমন এক দ্বৈত চাপে পড়তে হবে, যেখানে একদিকে অর্থনৈতিক স্থবিরতা (stagnant economy) সামাল দিতে সুদের হার (interest rates) কম রাখা দরকার, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর চাপ রয়েছে। এই “স্ট্যাগফ্লেশন (stagnation + inflation)” পরিস্থিতির শঙ্কা সামনে এসে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাপী প্রভাব: শুল্ক যুদ্ধের আশঙ্কা
এই মাত্রার শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। একদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যখন এত উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করবে, অন্য দেশগুলোও পাল্টা শুল্ক (retaliatory tariffs) আরোপ করতে চাইবে, যাতে ট্রাম্পের সাথে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থান অর্জন করা যায়।
এর ফলাফল হতে পারে একটি “শুল্ক যুদ্ধ (trade war)”, যেখানে প্রতিটি পক্ষ একে অপরের ওপর আরোপিত শুল্ক বাড়াতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই, এটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল (global supply chain) ব্যাহত হবে, দাম বাড়বে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। ক্ষতি আরও বেশি বাড়বে, কারণ বাজারে অনেকে এরই মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখা কিংবা পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শঙ্কিত।
এই পরিস্থিতি একেবারেই নজিরবিহীন (unprecedented)। ট্রাম্পের প্রশাসন বা অন্য কোন শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্লক আগে কখনো এত বড় মাপের, বিক্ষিপ্তধর্মী শুল্ক আরোপ করেনি। ফলে সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন যে, কোথায় গিয়ে এই দ্বন্দ্ব থামবে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যদর্শন
পূর্বে উল্লেখিত যে, “স্বাধীনতা দিবস” (Liberation Day) ঘোষণার আগে বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল; অনেকেই আশা করেছিলেন ট্রাম্প হয়তো হুমকি দিয়ে শেষমেশ তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে শুল্ক আরোপ করবেন। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য এগুলো ছিল সর্বনাশা সংবাদ।
বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে:
-
শেয়ারমূল্য দ্রুত পড়েছে
-
ডলারের বিনিময় হার (exchange rate) স্থিতিশীল থাকলেও সামনে অসময়ে বড় ওঠানামা হতে পারে
-
মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা সামনে আসতে পারে, ফলে ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচন করতে হতে পারে
-
ফেডারেল রিজার্ভ অস্বস্তিকর এক অবস্থানে পড়বে, কারণ অর্থনীতি পুনরায় চাঙা করতে সুদের হার কমাতে পারলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি আরও তীব্র হবে
অন্যদিকে বাইরের দেশগুলোয় রপ্তানিকারক (exporters) ও সরকারগুলো পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে। কেউ কেউ ভাবছে, “ট্রাম্পের সাথে আলাপ-আলোচনায় লাভ নেই, বরং পাল্টা শুল্ক আরোপই একমাত্র পথ।” কিন্তু পাল্টা শুল্কের ফলে আবার মার্কিন পণ্যের রপ্তানি বাজার সঙ্কুচিত হবে, যার পরোক্ষ প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়বে।
সবমিলিয়ে এটি একটি জটিল অবস্থান। কেউ হয়তো আশাবাদী যে, শেষ মুহূর্তে আলোচনা বা আইনি বাধার মাধ্যমে কয়েকটি শুল্ক উদ্যোগকে আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু লেখার সময় পর্যন্ত এই উচ্চ হারের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনাই বর্তমান প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান বলে মনে হচ্ছে।
উপসংহার
ট্রাম্পের “স্বাধীনতা দিবস” বা “লিবারেশন ডে” কথিত ঘোষণায় বিশাল শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্য—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবল অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। মার্কিন অর্থনীতিতে উচ্চমূল্যস্ফীতি, শেয়ারবাজারে ধস, এবং ফেডারেল রিজার্ভের জন্য কঠিন নীতি-সমন্বয়ের (monetary policy coordination) চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাল্টা শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকায়, এটি হয়তো একপ্রকার “শুল্ক যুদ্ধ” ডেকে আনবে, যা অর্থনৈতিক মন্দা (recession)-কেও তরান্বিত করতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাকি দেশগুলো এবার কী করবে? যারা ট্রাম্পের এই কৌশলকে অন্যায্য মনে করে, তারা কি চুপচাপ শুল্ক বাড়তি দিয়ে নিজেদের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাবে? নাকি নিজেরাও পাল্টা শুল্ক বসিয়ে আমেরিকার রপ্তানিকে ঝুঁকিতে ফেলবে? এটা এখনো স্পষ্ট নয়। বস্তুত এমন ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সাম্প্রতিক অতীতে তুলনা করা কঠিন, কারণ এ ধরনের বাণিজ্যিক উত্তেজনা এত বড় আকারে সাধারণত দেখা যায় না।
একটি বিষয় নিশ্চিত—পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল যে, অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকরা সবাই সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। যদি আপনি বিষয়টির আপডেট পেতে আগ্রহী হন, তবে আগামি দিনগুলোতে এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখতেই হবে। কারণ, “অভূতপূর্ব (unprecedented)” এই ভূমিকম্প বাজার, পলিসি এবং ভোগচাহিদার কাঠামো সবকিছুকেই বদলে দিতে পারে।
Leave a Reply