
এক দশক আগে ডাবলিনের সাউথ গ্রেট জর্জেস স্ট্রিটে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা খনন কার্যের সময় চারজন যুবকের দেহাবশেষের সাথে ঢাল, ছোড়া, এবং ব্যক্তিগত অলংকারাদি খুঁজে পান। তখন এই আবিষ্কারকে আয়ারল্যান্ডে ভাইকিং এর উপস্থিতির অনেকগুলো প্রমাণের মধ্যে একটি হিসেবে দেখা হয়। ১৭০০ সাল থেকে ডাবলিন জুড়ে কমপক্ষে ৭৭টি ভাইকিং সমাধি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনো কোনো সমাধি পরিখা খননকারীরা ঘটনাক্রমে আবিষ্কার করেছে, আর অন্য গুলো প্রত্নতাত্ত্বিকেরা সাইটগুলোতে খনন করে পেয়েছেন। সমাধি হতে প্রাপ্ত হস্তশিল্পের ভিত্তিতে এগুলো নবম বা দশম শতাব্দীর, এবং সাউথ গ্রেট জর্জেস স্ট্রিটের সমাধিগুলো আরও চারটি নতুন উদাহরণ হতে যাচ্ছে।
যখন ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজের খনন প্রধান লিন্ঝি সিম্পসন কার্বন ডেটিং জন্য দেহাবশেষ পাঠান, তখন তিনি বললেন ফলাফল ছিল “বেশ আশ্চর্যজনক”। মায়ামির বিটা এনালিটিক ও বেলফাস্টের কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা থেকে জানা যায় যে, ডাবলিনে ভাইকিং প্রতিষ্ঠার গৃহীত তারিখের কয়েক বছর বা এক দশক আগেই তাদেরকে এখানে সমাধিস্থ করা হয়েছে। এমনকি সম্ভবত দ্বীপটিতে প্রথম ভাইকিং অভিযানের আগেই।
একটি আকস্মিক, ভয়ানক আক্রমণের পরিবর্তে, আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের ভাইকিংদের আগমন শুরু হয়েছিল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনবসতি এবং বাণিজ্যের কারণে; যা আয়ারল্যান্ডকে প্রথমবার জন্য উত্তর ইউরোপীয় বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছিল- সিম্পসনের তথ্য এই ক্রমবর্ধমান ধারণাকে আরো অর্থবহ করে তুলেছে। বিচ্ছিন্ন মঠের (সম্ভবত একমাত্র জায়গা যেখানে শিক্ষিত মানুষ বাস করতো, যা ভাইকিং হানাদারদের খাদ্য ও সম্পদের উৎস) সন্ন্যাসীদের দ্বারা লিখিত, সমসাময়িক গ্রন্থে বর্ণিত সহিংস অভিযানের অনেক আগেই হয়তো এরা বাণিজ্য করতো। পণ্ডিতেরা গ্রন্থগুলোর বিশ্লেষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এর ঐতিহাসিক সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করছেন।
সন্ন্যাসীরা নিজেদের বাস্তুভিটা ও প্রতিষ্ঠানের উপর আক্রমণে বিধ্বস্ত ছিলেন। হয়তো এই কারণে অন্যান্য সমসাময়িক ঘটনা লিপিবদ্ধ করা হয়নি, কারণ সেখানে তা করার জন্য অন্য কোন শিক্ষিত লোক ছিল না। ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মধ্যযুগীয় মুদ্রাব্যবস্থায় কিউরেট ও ভাইকিং বিশেষজ্ঞ গ্যারেথ উইলিয়ামস্ বলেন, “বেশিরভাগ গবেষক এখন মনে করেন যে ভাইকিংদের অভিযান তাদের মধ্যে প্রথম যোগাযোগ ছিল না, যেমনটা পুরোনো গ্রন্থে সুপারিশকৃত।” “কিভাবে ভাইকিংরা জানলো কোথায় মঠগুলো ছিল?” কারণ তাদের এই অঞ্চলের মানুষের সাথে ইতিমধ্যে যোগাযোগ ছিল। অভিযানের অনেক আগে থেকেই তারা এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য করছিল।
মূল আর্টিকেলের লিংক: http://www.archaeology.org/issues/168-1503/features/2969-ireland-dublin-early-viking-prescence
–সুস্মিতা দেব
Leave a Reply